দুর্গা পূজা সমাবেশ 2026
শরৎ-আকাশের শিউলিঝরা ভোর আর আগমনীর সুরে সেজে উঠেছে চারিপাশ। দুর্গাপূজার এই মহাসন্ধিক্ষণে, আসুরিক শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে পরম কল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে দিল্লি পাবলিক স্কুল, দুর্গাপুর আয়োজন করেছিল এক অনন্য মহোৎসব— “শক্তির আরাধনা – The Celebration of Divine Shakti”। ভক্তি, শ্রদ্ধা আর পরম নিষ্ঠার মেলবন্ধনে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানটির মূল সুরই ছিল— অন্ধকার ভেদ করে শুভ ও ন্যায় শক্তির শাশ্বত জয়।
প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের পবিত্র আলোয় অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা ঘটে। এরপর মঞ্চ আলো করে উপস্থিত হন ‘বিবেকানন্দ ভব সমাজ’-এর শ্রদ্ধেয় প্রবীণ নাগরিকবৃন্দ, যাঁদের পরমাদরে সংবর্ধনা জানানো হয়। তাঁদের গৌরবময় উপস্থিতি সমগ্র অনুষ্ঠানজুড়ে এক অনন্য আন্তরিকতা ও স্নিগ্ধ গাম্ভীর্যের আবহ ছড়িয়ে দেয়। নবীন ও প্রবীণের এই মেলবন্ধন যেন আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির সুদৃঢ় ও মধুর সম্পর্কের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছিল। এটি আবারও প্রমাণ করে যে, প্রবীণদের সান্নিধ্য আমাদের সবার জীবনকে প্রজ্ঞা, দিকনির্দেশনা ও অফুরন্ত আশীর্বাদে ধন্য করে তোলে।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনাগুলোর প্রতিটি পরতে পরতে উৎসবের মূল ভাবনাটি যেন মূর্ত হয়ে উঠেছিল। তার মধ্যে হৃদয়স্পর্শী মহালয়া পাঠ, ভক্তিঘন ভক্তিগীতি এবং তবলার ছন্দোময় জুগলবন্দি ‘দুর্গা পরাণ’ দর্শকমনকে এক অলৌকিক আবেগে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এর পাশাপাশি, দর্শক-শ্রোতাদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছিল কালজয়ী বাংলা নাটক ‘দেবীচণ্ডী ও কালকেতু‘ এবং ‘দুর্গা অষ্টকম‘ ও ‘সাজো সাজো দশভুজা‘ গানের তালের সাথে পরিবেশিত অসাধারণ মনোমুগ্ধকর নৃত্যকলা।
প্রতিটি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে মা দুর্গার সেই শাশ্বত মহাশক্তি, যা আমাদের সাহস, ন্যায়, দয়া ও আত্মিক শক্তির চিরন্তন বার্তা দেয়। শিক্ষার্থীদের অসাধারণ প্রতিভা আর নিষ্ঠা যেমন ভারতের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি তাদের গভীর শ্রদ্ধাকে মেলে ধরেছে, তেমনই এই উৎসবের আনন্দ ও ভক্তি পুরো বিদ্যালয়-পরিবারকে বেঁধেছে এক অভেদ্য ঐক্যের সুতোয়।
বিশ্বাস ও একাত্মতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে, গুরুজনদের প্রতি সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এবং একরাশ ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার করে শেষ হলো এই সুন্দর আয়োজন।
শুভ শারদীয়া! জয় মা দুর্গা!